বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
জুলাই স্মরণে জামায়াতের ৩৬ দিনের কর্মসূচি অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা নিষেধ, গণমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে : তথ্য উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

আলু-চালের সরকারি দাম ঘোষণায় বন্দি, বাজারে নেই

অর্থনিতি ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে আলু ও চাল বিক্রি করছেন না ব‌্যবসায়ীরা। তারা প্রতি কেজি চালে ৫-৬ টাকা, আলুর ওপর ২০ টাকা অতিরিক্ত দাম রাখছেন। ক্রেতারা বলছেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম ঘোষণায় সীমাবদ্ধ আছে, বাজারে নেই। তাদের অভিযোগ, সরকারের দুর্বল বাজার মনিটরিংয়ের কারণে ‘অসাধু ব্যবসায়ীরা’ দাম বাড়িয়ে ফায়দা নিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতি কেজি মিনিকেট চালের (মিলগেট মূল্য) দাম সাড়ে ৫১ টাকা ও মাঝারি চাল প্রতি কেজির ৪৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। আর ১৪ অক্টোবর আলু খুচরা বাজারে ৩০ টাকা ও পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি ২৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার।

শুক্রবার সরেজমিনে রাজধানীর কোনো বাজারে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে আলু ও চাল বিক্রি করতে দেখা যায়নি।

রাজধানীর যাত্রবাড়ী ও কাপ্তানবাজারে এসেছেন আবুল হোসেন ও এনামুল হক। তারা বলেন, ‘টিভির খবরে দেখলাম, সরকার আলুর দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। প্রতি কেজি আলু ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

এই প্রসঙ্গে মাসুদ মিয়া নামের কাপ্তান বাজারের এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, ‘কৃষক ও কোল্ড স্টোর থেকে ৪০ টাকা কেজি দামে কিনেছি। ২ টাকা লাভে করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছি। সরকার দাম বেঁধে দিলে হবে না, আমরা কিনেছি ৪২ টাকায়, ২৫ টাকায় কিভাবে বিক্রি করবো?’

শ্যামবাজারের মিতালী এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার আব্দুল মালেক বলেন, ‘দেশে প্রচুর আলু মজুদ আছে। সবজির দাম বাড়ার সুযোগে ব্যবসায়ী ও কোল্ড স্টোরের মালিকরা সিন্ডিকেট করে আলুর দাম বাড়িয়েছেন। বাড়তি দামে কোল্ড স্টোর থেকে ৩২ থেকে ৩৬ টাকায় কিনে কেজিতে এক টাকা লাভে বিক্রি করছি।’

এদিকে, যাত্রাবাড়ীর চাল বাজারের ক্রেতা হাফিজ উদ্দীন বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়িয়ে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করে নিচ্ছেন। তারা সরকারের নির্দেশনা মানছেন না। এমন পরিস্থিতিতে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো দরকার।’

যাত্রবাড়ীর পাইকারী চাল বিক্রেতা সাজ্জাদ রাইস এজেন্সির প্রোপাইটার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়তি দামে চাল বিক্রি হচ্ছে। এরপর থেকে আর চালের দাম বাড়েনি। সরকার নির্ধারিত দামে চাল বিক্রি হচ্ছে না। ২৯ সেপ্টেম্বর পাইজামের দর ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা ছিল। এখন ৪৭ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেটে দাম ছিল ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৫৮ টাকায়। বিআর আটাশের দাম ছিল ৪১ থেকে ৪৩ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৮ টাকায়। সিটি, উৎসব, রশিদ, মোজাম্মেল ও বিশ্বাসসহ অন্যান্য নামি ব্র্যান্ডের মিনিকেটের ৫০ কেজি ওজনের বস্তা ২ হাজার ৩৫০-২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৫০-২ হাজার ৭৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আর নাজিরশাইলের দাম ২ হাজার ৪৭৫-২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৬৫০-২ হাজার ৮৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।’

অতিরিক্ত দামে চাল বিক্রির কথা স্বীকার করেন কাপ্তানবাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘গত ২৯ সেপ্টেম্বর সরকার চালের দাম নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। বাড়তি দামে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারের দুর্বল মনিটরিংয়ের কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন।’

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বলেন, ‘গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকেই সরকারি দামে চাল বিক্রি শুরু করেছি। কিন্তু চালের অর্ডার খুব কম। মিনিকেট চাল ৫০ কেজি ওজনের বস্তার মূল্য ২ হাজার ৫৭৫ টাকা (প্রতি কেজি ৫১.৫০ টাকা) এবং মাঝারি আটাশ চাল ৫০ কেজি ওজনের বস্তার মূল্য ২ হাজার ২৫০ টাকা (প্রতি কেজি ৪৫ টাকা) বিক্রি করছি। আগে থেকে মজুদ থাকা চাল আড়ৎদাররা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।’
এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বুহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বলেন, ‘বেশ কিছু মিল মালিক অবৈধভাবে ধান-চাল মজুদ করে রেখেছে। ইতোমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে এসব মিল মালিকদের জরিমানা করেছে। আরও বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। ’
দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও মন্ত্রী বলেন।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com